হোসেনপুরে নিরাপদ সড়ক চাই এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
সঞ্জিত চন্দ্র শীল
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) হোসেনপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ ১৫ই অক্টোবর এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা নিরাপদ সড়ক চাই শাখার সদস্য সচিব সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল, সদস্য ও সিসিম কিন্ডারগার্টেন এন্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক সীমা সরকার, সদস্য নজরুল ইসলাম খায়রুল সহ পুমদী ইউনিয়নের বর্শিকুড়া এলাকার সিসিম কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলা এবং সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। গাছ মানুষের জীবন ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে, বায়ুদূষণ কমাতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকেরই গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জননিরাপত্তা সমস্যা। অসতর্কতা, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা কমাতে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ব্যবহার এবং যানবাহন চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গাছ লাগানোর গুরুত্ব এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হতে পারে।
নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রত্যাশা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি সরা মাস ব্যাপি সহ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ সমাজ গড়ে উঠবে।
সদস্য সচিব সঞ্জিত চন্দ্র শীল বলেন-জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, সড়ককে ছায়াময় ও নিরাপদ করে এবং চালকদের চোখের প্রশান্তি দেয়। নিসচা প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের হাত ধরে ৩৩ বছর ধরে এই আন্দোলন দেশব্যাপী চলছে।
এবং সড়কে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ ধরনের কর্মসূচির প্রকৃত সার্থকতা।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply