কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ: ক্ষুব্ধ যাত্রীরা, তদন্তের দাবি
কিশোরগঞ্জ সদর প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারে টিকিট কিনতে গেলে ‘টিকিট নেই’ বলা হলেও দ্বিগুণ ও তিনগুণ দামে কালোবাজারে তা অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে। এই চক্রের পেছনে সরাসরি স্টেশন মাস্টারের পরোক্ষ মদদ ও সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘এগারো সিন্ধুর প্রভাতী’, ‘এগারো সিন্ধুর গোধূলি’ এবং ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু স্টেশনের বাইরে ও কিছু নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে এসব টিকিট অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ থেকে নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রী জানান, কাউন্টার থেকে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক নিয়মে টিকিট পাচ্ছে না। অথচ চড়া দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে যেকোনো সময়ের টিকিট পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এসব বিষয়ে স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমানের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি; বরং অভিযোগকারীদের সাথে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় যাত্রী অধিকার রক্ষা আন্দোলনকারী ও সচেতন নাগরিকেরা জানান, স্টেশন মাস্টারের ছত্রছায়াতেই কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী কালোবাজারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে খলিলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, টিকিট কালোবাজারির সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই ।অনলাইনে ও কাউন্টারে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে টিকিট বিক্রি করা হয়।রেলওয়ের ঊধ্বতর্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচেতন মহল দ্রুত কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনকে কালোবাজারি মুক্ত করা এবং যাত্রীদের হয়রানি বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply