মোঃ এনামুল হক বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে একটা ফাঁক আছে। সরকারের ভেতরের পাওয়ারফুল একটা গ্রুপ এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গেম খেলতেছে ব্যাটে-বলে মেলানোর জন্য, যেটা তারেক রহমান রিয়েলাইজ করতে পেরেছেন বলে আমার ধারণা। ফলে, তিনি ভিন্ন স্ট্রেটেজিতে তাদের মোকাবেলায় পাল্টা গেইম খেলছেন।
প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা সাধারণত ১২ হাজার টন, চাহিদার থেকে বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, নতুন করে তেলের জাহাজ দেশে ঢুকতে দেরি হলেও প্রায় ১৫-১৬ দিন মজুদ তেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে। তাহলে পাম্পে কেন দীর্ঘলাইন, কেউ কেউ পাম্পে গিয়ে শুনতে হচ্ছে, তেল নাই?
এখানেই গেমটা খেলছে অসাধু সিন্ডিকেট। তারা যে কাজটা করতেছে, গোপনে বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেছে। ফলে, বাধ্য হয়ে সরকার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে এরা মজুদকৃত তেল আবার বাজারে ছাড়বে।
এই গেইমটা ধরতে পেরে তারেক রহমান বারবার মিটিংয়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব রিজেক্ট করে উল্টো মনিটরিং বৃদ্ধি করার জন্য নির্দেশনা দিতেছেন। কোথায় ঘাবলা, বের করার ট্রাই করতেছেন।
এই সংকট নিরাসনে তারেক রহমান দুই ধরনের স্ট্রেটেজি অনুসরণ করে এগোচ্ছেন।
কূটনৈতিক চাল। প্রথমত, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে দৌড়ঝাঁপ করাচ্ছেন ইরানের সঙ্গে গুড কানেকশন তৈরি করাতে। যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আনয়ন করা বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজের ওপর এ্যাটাক না-করা হয়, কিংবা কোনো ধরনের বাঁধার সৃষ্টি না-করা হয়।
কূটনৈতিক চালে বলা যেতে পারে সফল বাংলাদেশ। ইরান থেকে ক্লিয়ার করেছে বাংলাদেশসহ বন্ধুপ্রতিম ৫টি রাষ্ট্রের তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকাবে না তারা।
এ মাসে ৮টি জাহাজে জ্বালানি তেল এসেছে। যুদ্ধের কারণে সূচি বিলম্ব হয়েছে অনেক জাহাজের, খরচও বেড়েছে। বাট সরকার ভর্তুকি দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।
আজ এলো আরেকটি জাহাজ। এপ্রিল-মে মাসের জন্যও চুক্তি সেরে রেখেছে। এপ্রিলের প্রথমার্ধে ১৪টি জাহাজ ও পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার টন ডিজেলসহ অন্যান্য তেল আসবে। মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন আনার চুক্তিও সেরে রেখেছে।
কূটনৈতিক ডিলিংয়ে ভারতের সঙ্গে একপ্রকার সমঝোতা হয়েছে ইমার্জেন্সি হলে ভারত পাইপলাইনে তেল সরবরাহ করবে। যদিও এখানে খরচ বারতি হবে। বাট বাংলাদেশ তো আর দরকার ছাড়া ভারত থেকে আমদানি করতে যাবে না।
দ্বিতীয় যে স্ট্রেটেজিটি অনুসরণ করছেন তারেক রহমান তা হলো, দাম স্থিতি রেখে অবৈধভাবে মজুদকারী সিন্ডিকেট হোতাদেরকে আটকানো। এখন দাম বৃদ্ধি করলেই অবৈধ মজুদে থাকা তেল এরা বাজারে ছেড়ে দিবে। জ্বালানি তেল বেশিদিন মজুদ করে রাখাও সম্ভব হবে না। আবার কিছুটা ভীতি থেকে মানুষও প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কিনবার চেষ্টা করতেছে।
সরকার আজকে আরেকটি গ্রেইট পদক্ষেপ নিছে, ৬৪টি জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করে দিছে তেলের সরবরাহ তদারকি প্লাস অবৈধ মজুূদকারীদের ধরতে। সাথে পরামর্শ ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ধরতে সাধারণ মানুষের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করেছে, অবৈধভাবে তেল মজুদ করে রাখার সন্ধান যারা দিতে পারবেন, তাদের পুরষ্কৃত করবে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply