নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়। কিন্তু আবেগ আর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আমরা প্রায়ই সেই মূল্যবান সময় ব্যয় করি অন্যের অনিষ্ট চিন্তায় বা প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। তার চেয়ে বরং ক্ষতিকর মানুষকে জীবন থেকে চিরতরে ‘মুছে ফেলা’ বা এড়িয়ে চলাই হলো মানসিক শান্তির শ্রেষ্ঠ উপায়।
প্রতিশোধ কেন সময়ের অপচয়?
প্রতিশোধ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী এবং নেতিবাচক। যখন আপনি কারও ওপর প্রতিশোধ নিতে চান, তখন আপনার মস্তিষ্ক সারাক্ষণ সেই মানুষটির কথা চিন্তা করে। এতে আপনার নিজের সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত উন্নতির পথ বাধাগ্রস্ত হয়। আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি বিখ্যাত উক্তি এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:
”দুর্বল মানুষ প্রতিশোধ নেয়, শক্তিশালী মানুষ ক্ষমা করে, আর বুদ্ধিমান মানুষ উপেক্ষা করে।”
‘মানুষ মুছে ফেলা’ বলতে কী বোঝায়?
মানুষ মুছে ফেলা মানে এই নয় যে কাউকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া। এর অর্থ হলো আপনার মন, মস্তিষ্ক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা।
মানসিক দূরত্ব: তাদের কর্মকাণ্ডে আর বিচলিত না হওয়া।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা: যারা আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করে, তাদের থেকে দূরে থাকা।
স্মৃতি থেকে মুক্তি: তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে পড়ে না থেকে নতুন লক্ষ্য স্থির করা।
বিশেষজ্ঞের অভিমত
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আপনি যখন কাউকে ক্ষমা করে দেন বা জীবন থেকে মুছে ফেলেন, তখন আপনি আসলে নিজেকেই মুক্ত করেন। প্রতিশোধের আগুন অন্যকে পোড়ানোর আগে নিজেকেই বেশি দগ্ধ করে। তাই স্মার্ট প্রজন্মের কাছে এখন “Revenge” (প্রতিশোধ) এর চেয়ে “Moving On” (এগিয়ে যাওয়া) বেশি জনপ্রিয়।
সারকথা: জীবনটা খুব ছোট। এখানে ঘৃণা পুষে রাখার চেয়ে ভালোবাসার মানুষদের জন্য সময় বরাদ্দ করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। প্রতিশোধ নিয়ে কাউকে ছোট করার চেয়ে, নিজের সাফল্যে তাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলাই হোক শ্রেষ্ঠ জবাব।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply