1. dailyjanatarshakti@dailyjanatarshakti.com : dailyjanatarshakti : dailyjanatarshakti
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
দুর্নীতিবাজ শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী: বিআরটিএ-এর একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার অভিযোগপত্র - dailyjanatarshakti
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতিবাজ শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী: বিআরটিএ-এর একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার অভিযোগপত্র

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ Time View

দুর্নীতিবাজ শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী: বিআরটিএ-এর একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার অভিযোগপত্র
টাফ  রিপোর্টার

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের একটি চিত্র উঠে এসেছে যখন আমরা কথা বলি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর পরিচালক (রোড সেফটি) পদে কর্মরত জনাব শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানীর নামে। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি সরকারি চাকরির সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি এবং শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন? এই প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব এই দুর্নীতির অভিযোগ, তার পটভূমি, সম্ভাব্য উৎস এবং সামাজিক প্রভাব।
শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী কে?
শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক (রোড সেফটি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে থেকে তিনি সড়ক নিরাপত্তা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, যানবাহনের ফিটনেস, রুট পারমিট, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলককরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। বিআরটিএ-এর মুখপাত্র হিসেবেও তিনি প্রায়ই গণমাধ্যমে কথা বলেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বলেছেন যে, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো রোধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, চালক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলে থাকেন।
কিন্তু এই সব কথার আড়ালে যে অভিযোগ উঠেছে, তা হলো—তার ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস সন্দেহজনক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত পোস্ট অনুসারে, তিনি বসুন্ধরায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির মালিক। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তার সম্পদের পরিমাণ শত শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই অভিযোগগুলো প্রধানত ফেসবুক পোস্ট এবং কিছু গ্রুপ থেকে উঠে এসেছে, যেখানে সরাসরি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগের মূল উৎস কী?
বিআরটিএ-এর মতো একটি সংস্থায় দুর্নীতির সুযোগ অনেক। এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট, ভেহিকল রেজিস্ট্রেশন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় ইত্যাদি কাজে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়। অভিযোগ উঠেছে যে:
লাইসেন্স ও ফিটনেসে দালালি: ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বা নবায়ন করতে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। অনেক চালক অভিযোগ করেন যে, বৈধ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স পাওয়া কঠিন, দালাল ছাড়া কাজ হয় না।
অবৈধ যানবাহনকে ছাড়: নছিমন-করিমন, থ্রি-হুইলার, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লেগুনা ইত্যাদি অবৈধ যানবাহন রাজধানীতে দাপিয়ে বেড়ায়। অভিযোগ আছে যে, নিয়মিত অভিযান হলেও কিছু ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে ছাড় দেওয়া হয়।
পুলিশ পাস ও অনিয়ম: গণপরিবহনে ‘পুলিশ পাস’ নামে অঘোষিত নিয়ম চালু আছে বলে অভিযোগ। এতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়।
স্মার্ট কার্ড ও চুক্তি: লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড সরবরাহে চুক্তি বাতিল বা বিলম্বের নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এসব ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল অনিয়ম রোধ করা, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে তিনি নিজেই এসবের সুবিধাভোগী বা প্রশ্রয়দাতা।
সম্পদের রহস্য
সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব দাখিল করতে হয়। কিন্তু শেখ মাহবুব ই রাব্বানীর ক্ষেত্রে অভিযোগ যে, তার দৃশ্যমান সম্পদ (বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি) তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও পোস্টে দেখা যায় যে, তিনি বিলাসী জীবনযাপন করেন। এই সম্পদ কীভাবে অর্জিত? সম্ভাব্য উৎস:
লাইসেন্স-সংক্রান্ত দালালি থেকে কমিশন
পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে মাসোয়ারা
অবৈধ যানবাহন থেকে চাঁদা
বিভিন্ন প্রকল্প বা চুক্তিতে অনিয়ম
এসব অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য দুদকের তদন্ত দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি।
সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্নীতির যোগসূত্র
বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। অবৈধ যান, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, মাদকাসক্ত চালক—এসবের জন্য দায়ী করা হয় বিআরটিএ-কে। যদি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেরাই দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন, তাহলে সড়ক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? শেখ মাহবুব ই রাব্বানী নিজে বলেছেন যে, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, কিন্তু বাস্তবে রাস্তায় পরিবর্তন খুব কম।
সমাজের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। দাবি উঠেছে:
দুদকের অভিযান
সম্পদের হিসাব যাচাই
পদ থেকে অপসারণ
স্বচ্ছ তদন্ত
দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত এই অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা। কারণ, যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু একজন ব্যক্তির দুর্নীতি নয়—পুরো সিস্টেমের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
উপসংহার
দুর্নীতি আমাদের দেশের একটি ক্যান্সার। শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানীর মতো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই না করে চুপ করে থাকা উচিত নয়। স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে হলে এসব অভিযোগের তদন্ত জরুরি। দৈনিক স্বাধীন সংবাদ সবসময় জনগণের পক্ষে সত্য প্রকাশ করবে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।দূর্ণীতি দমন কমিশন দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2022

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি