কিশোরগঞ্জে গ্রাহকের মিটার অন্যত্র বিক্রি ও বিল কারসাজি: বিউবোর এসবিএ মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ সদর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) কিশোরগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ অফিসের সুইচেবোর্ডের দায়িত্বে থাকা সুইচেবোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বের গ্রাহকের মিটার বিচ্ছিন্নের আদেশ অমান্য করে টাকার বিনিময়ে অন্য গ্রাহকের নিকট বিক্রি করা, অবৈধ ‘কপি মিটার’ বানিয়ে সংযোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে ভূতুড়ে বিল ইস্যু ও বিলে অনৈতিকভাবে হাত বদলের তথ্য প্রমাণের নথি পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও নথিপত্রের প্রমাণ:
সংগৃহীত নথিপত্রে (বিল নম্বর: ৫৬১১১৩২৭) দেখা যায়, মো. জহিরুল ইসলাম (পিতা: মো. আলিম উদ্দিন, গ্রাম: মোল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জ) নামে বিউবোর অধীনে একটি বিদ্যুৎ সংযোগ (কনজুমার নম্বর: ৭০৯১৭৩৭৭, মিটার নম্বর: ১০৭৩২৬৯০) বিদ্যমান ছিল। জহিরুল ইসলামের উক্ত মিটার ও লাইন বন্ধ করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, অভিযুক্ত এসবিএ মাইনুদ্দিন লাইন বিচ্ছিন্ন না করে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ১২,০০০ (বারো হাজার) টাকার বিনিময়ে মিটারটি সাইফুল নামের অপর এক গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দেন।
সংযুক্ত ইলেকট্রিক মিটার (ব্র্যান্ড: TOKAI, মডেল: TSE52B, মিটার নং: ১০৭৩২৬৯০) ও সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের মূল বিলের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাইফুল নামক গ্রাহক মিটারটি মাত্র এক মাস তিন দিন ব্যবহার করার পর সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসে তাঁর অনুকূলে মোট ১৯,১০৩ (উনিশ হাজার একশত তিন) টাকার সমপরিমাণ মোটা অঙ্কের ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করা হয়।
বিল সংশোধন ও পকেট থেকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ:
বিশাল অঙ্কের বিল দেখে ভুক্তভোগী গ্রাহক এসবিএ মাইনুদ্দিনের কাছে কারণ জানতে চাইলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। মাইনুদ্দিন বিলের কাগজটি অফিসে এনে কারসাজির মাধ্যমে নিট পরিশোধযোগ্য বিল কম দেখিয়ে ছয় হাজার টাকা সংশোধন করে নিয়ে আসেন। প্রাপ্ত বিল দিতে দেখা যায়, হাতে লিখে “৬০০০/০০”টাকা সমন্বয়/পরিশোধের সিল ও স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি গোপন রাখতে ও গ্রাহককে শান্ত রাখতে অভিযুক্ত মাইনুদ্দিন নিজ পকেট থেকে গ্রাহককে ৩০০০( তিন হাজার) টাকা প্রদান করেন।কফি মিটার ও সরকারের রাজস্ব ক্ষতি: অভিযোগে আরো প্রকাশ পেয়েছে, নিয়ম মাফিক সংযোগ ও দাপ্তরিক নথি না রেখে ‘এসবিএ মাইনুদ্দিন ভুয়া বা’ কফি মিটার’ প্রক্রিয়ায় গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছেন। এতে একদিকে যেমন অসদুপায়ে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে, অন্যদিকে সরকার ও বিউবো বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও সংগৃহীত ভিডিও বক্তব্যে ভুক্তভোগী গ্রাহক নিজের মুখে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন ,”মিটার লাগানোর এক মাস তিন দিনের মাথায় ১৯ হাজার টাকার বিল আসে। পরবর্তীতে কথা বললে বিলটি অফিসে এনে ৬ হাজার টাকা করা হয়।”ভিডিওতে মিটারের রিডিং এবং বিলের সময়সীমার চরম অসঙ্গতি স্পষ্ট দেখা যায় ।কঠোর শাস্তির দাবি: সরকারি অফিসে বসে” দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন” প্রতিপাদ্য লেখা বিলের পিছনে এমন বেআইনি কারসাজিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জের স্থানীয় গ্রাহক ও সচেতন নাগরিক সমাজ ।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসবিএ মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের ঊধ্বতর্ন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে ।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply