স্টাফ রিপোর্টারঃ
মোঃ ফয়েজ আহাম্মদ নিলয়
হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ
স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক সম্পূর্ণ ভিন্ন রোগ। অনেকেই এ সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে থাকেন।শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও এই বিষয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। এই ভুল ধারণার কারণেই অনেক সময় স্ট্রোক হলে রোগীকে সাথে সাথে হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।এতে মূল্যবান সময় এবং অর্থের অপচয় হয়।চিকিৎসা শুরু হতে দেরী হবার কারণে অনেক সময় খারাপ কিছুও হয়ে যায়।স্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্তনালীর রোগ এবং হার্ট অ্যাটাক হৃৎপিন্ডের রোগ। দুটি সম্পূর্ণই আলাদা অসুখ। এই বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
কোনো কারণে যদি মস্তিষ্কের রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ফেটে যায় তবে স্ট্রোক হয়। মনে রাখতে হবে স্ট্রোক কখনো আঘাতজনিত কারণে হয় না।রক্তনালী বন্ধ হবার কারণে বেশি স্ট্রোক হয়। শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ স্ট্রোক হয় রক্তনালী বন্ধ হবার কারণে।
স্ট্রোকের বেশ কিছু “রিস্ক ফ্যাক্টর” আছে। যেমন –
১/ উচ্চ রক্তচাপ
২/ ডায়াবেটিস
৩/ বেশি বয়স
৪/ ধূমপান
৫/ হৃৎপিন্ডের নানাবিধ সমস্যা
৬/ মস্তিষ্কের রক্তনালী সরু হয়ে গেলে
৭/ অ্যালকোহল
৮/ কায়িক পরিশ্রমের অভাব
৯/ রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল ইত্যাদি। মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের স্ট্রোক বেশী হয়।
স্ট্রোক হলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। মস্তিষ্কের কোনো স্থানে রক্তনালী বন্ধ বা ফেটে গেছে তার ওপর নির্ভর করে। স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এসব লক্ষণ এর মধ্যে আছে –
১. কোনো পাশ দুর্বল হওয়া বা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়া।
২. কথা বলতে সমস্যা
৩. ঢোক গিলতে অসুবিধা
৪. দৃষ্টি সমস্যা
৫. প্রস্রাবের অসুবিধা
৬. মাথা ঘোরা
৭. মাথা ব্যথা
সবার ক্ষেত্রে একই সমসা হয় না। একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম উপসর্গ দেখা যায়।
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখে সন্দেহ হলে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করেন। একেবারে নিশ্চিত হবার জন্যে সিটি স্ক্যান, এমআরআই করা হয়।এছাড়া কিছু পরীক্ষা করা হয় রিস্ক ফ্যাক্টর খুঁজে বের করার জন্য।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রথমে দেখা হয় রোগীর পাল্স, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তচাপ ঠিক আছে কি না এবং এসব স্বাভাবিক রাখা। রোগীর পুষ্টি ঠিক রাখার জন্য সঠিক খাদ্য সরবরাহ করা। রোগী খেতে না পারলে প্রয়োজনে নাকে নল দিয়ে খাবার ব্যবস্থা করা হয়। স্ট্রোকের রোগীকে প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর এপাশ-ওপাশ করে শোয়ানো উচিত। তাহলে পিঠের ঘা প্রতিরোত করা সম্ভব। রোগী ঠিকমতো মলমূত্র ত্যাগ করছে কি, না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। স্ট্রোকের কারণগুলো যেমন-রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে খুব দ্রুত। জ্বর, নিউমোনিয়া, লবণের স্বল্পতা হলে তা সাথে সাথে ঠিক করতে হবে। এরপর কোন ধরনের স্ট্রোক হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা করতে হবে।
স্ট্রোক থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, ধূমপান বর্জন করতে হবে, কোলেস্টেরলমুক্ত খাবার, পরিমিত ব্যায়াম, হার্টের অসুখের চিকিৎসাসহ দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে জীবনযাপন করতে হবে। সচেতন হলে স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা অনেক কমে আসবে। স্ট্রোক আর হার্ট এটাক সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি রোগ। একটি মস্তিষ্কের আর অপরটি হার্টের। দুটো নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না
হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ
_______________________
√পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্যই হার্ট অ্যাটাক শুরু হয় হালকা বুকে ব্যথা বা অস্বস্তির মধ্য দিয়ে। মহিলাদের আরো কিছু অভিজ্ঞতা হয়। যেমন -শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বল্পতা, বমি বমি ভাব,পিঠে অথবা চোয়ালে ব্যথা ইত্যাদি।
√বেশির ভাগ হার্ট অ্যাটাকের পূর্বে বুকের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়ে সেটা কয়েক মিনিট থাকে। এরপর অস্বস্তি ভাবটা হয় একেবারে চলে যায়
অথবা আবার ফিরে আসে। এটা এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতি দেয়, যেমন-ভেতরে চাপ বা নিষ্পেষণ তৈরি হয়।
√এছাড়াও শরীরের ওপরের অংশে বিশেষ করে উভয় বাহুতে, পিঠে, ঘাড়ে,চোয়ালে অথবা পাকস্থলীতে প্রদাহ থেকে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ হতে পারে।
√অনেক সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের হার কমে যায়।
√অন্যান্য পূর্ব সংকেতের মধ্যে আছে
ঠান্ডা ঘাম,বমি ইত্যাদি।
স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ
—————————
√শরীরের এক পাশে আকস্মিক অসাড় অবস্থা তৈরি হওয়া, বিশেষত
মুখমন্ডল, পা এবং বাহুতে।
√আকস্মিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব অথবা কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
√আকস্মিকভাবে দুই চোখেই দেখতে সমস্যা হওয়া।
√মাথা ঘোরা,ভারসাম্য বা সমন্বয় নষ্ট হওয়া।
√কোনো জানা কারণ ছাড়াই আকস্মিক তীব্র মাথাব্যথা
উপরোক্ত লক্ষণ গুলো দিকে দিলে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক
ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply