মোঃ উজ্জ্বল মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা | ১০ জুন, ২০২৬
পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় শুরু হয়েছে ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী পাইলট প্রকল্প। ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে ৬ মাস মেয়াদী এই কর্মসূচির কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে।
আজ বুধবার নগর ভবনের মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্পে ২০ জন ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করবেন।
নাগরিক সচেতনতায় ‘সিটি ইন্সপেক্টর’
কর্মসূচির আওতায় মতিঝিল এলাকাকে (৯নং ওয়ার্ড) ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে দুইজন করে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর বাড়ি, দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তাদের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে:
নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।
এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ ও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ প্রদান।
যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা।
সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও নাগরিক জরিপ পরিচালনা।
সামাজিক প্রচারে দায়িত্ববোধের মূল্যায়ন
এই প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নাগরিক দায়িত্বশীলতার মূল্যায়ন। সিটি ইন্সপেক্টররা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকদের নিয়মিত তদারকি করবেন। দায়িত্বশীল এবং দায়িত্বহীন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে পরবর্তীতে সামাজিকভাবে তাদের প্রচার করা হবে, যাতে পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
প্রশাসকের বক্তব্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, “একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি আঙিনা পরিষ্কার থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।” তিনি আরও বলেন, মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যদি একটি আদর্শ ওয়ার্ডে পরিণত হয়, তবে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে সম্প্রসারণ করা হবে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply