দীর্ঘ ২০ বছর পর স্বস্তির ঈদ: রাজপথের লড়াকু সৈনিক শওকত আজিজের দুই দশকের ত্যাগ ও মানবিক রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ ২০ বছর পর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বর্তমান সরকারের আমলে জনমনে ফিরে এসেছে ঈদের প্রকৃত আনন্দ। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সেই অবরুদ্ধ পরিবেশ কাটিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে স্বস্তির নিশ্বাস। এই আনন্দঘন মুহূর্তে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও মানবিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের পরীক্ষিত কর্মী এবং তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম ‘Power of Youth’-এর কর্ণধার শওকত আজিজ।
রাজপথ থেকে হোসেনপুর: অবিচল এক পথচলা
২০০৬ সাল থেকে ঢাকার রাজনীতির রাজপথে যার পদচারণা, তিনি শওকত আজিজ। দীর্ঘ ১৮ বছরের দুঃশাসন ও প্রতিকূলতার মাঝেও জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি তিনি। প্রতিটি জাতীয় কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত থেকে রাজপথের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের মাটি ও মানুষের সাথে রয়েছে তার নাড়ির টান। ঢাকা থেকে হোসেনপুর—সর্বত্রই তিনি তারুণ্যের শক্তির প্রতীক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
”রাজনীতি আমার কাছে শুধু ক্ষমতার মাধ্যম নয়, বরং দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এক সুযোগ। ব্যক্তিগত কোনো প্রাপ্তির আশায় নয়, আদর্শের টানেই আমি রাজপথে আছি এবং থাকব।” — শওকত আজিজ।
‘Power of Youth’: মানবিকতার এক অনন্য নাম
বিগত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে যখন সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ছিল চ্যালেঞ্জিং, তখন শওকত আজিজ অত্যন্ত কৌশলী ও সুসংগঠিতভাবে ‘Power of Youth’ নামক সামাজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এই সংগঠনের ব্যানারে তিনি মানবিকতার নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন:
- ত্রাণ ও পুনর্বাসন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অভাবী মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়িয়েছেন।
- শীতবস্ত্র বিতরণ: হাড়কাঁপানো শীতে শীতার্তদের উষ্ণতা দিতে পৌঁছে গেছেন দুয়ারে দুয়ারে।
- কোভিড-১৯ মোকাবিলা: অতিমারীর সময়ে যখন মানুষ অসহায় ছিল, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ ও সুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।
- রক্তদান ও শিক্ষা: জরুরি প্রয়োজনে রক্তদান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তায় তার সংগঠন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
আদর্শের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ
শওকত আজিজ কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীই নন, বরং তিনি একজন সমাজ সংস্কারক। ২০০৬ সালের সেই অবৈধ শাসনামল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি চড়াই-উতরাইয়ে তিনি দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনায় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। কোনো জেল-জুলুম বা ভয়ভীতি তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বাস করেন, তারুণ্যের শক্তিই পারে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে। ঈদ পরবর্তী সময়েও মানুষের পাশে থাকার এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে তিনি পূর্বের ন্যায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
মানুষের পাশে সবসময়, রাজপথে অবিচল।
জয় হোক তারুণ্যের, জয় হোক মানবতার।
Leave a Reply