মোঃ রবিউল আউয়াল
হোসেনপুর( কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে মাঠের পর মাঠ উঠতি ফসল ও বুট্রা ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিদলা ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকরা। তবে প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের পরও এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কোনো কর্মকর্তা কৃষকদের খোঁজ নিতে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র গত কয়েক দিন যাবৎ
রাতের প্রবল ঝড়ে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক তাণ্ডব চলে। ঝড়ে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বোরো ধান বাতাসের তীব্রতায় ধান গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের শীষ ঝরে গেছে।
ভুট্টা ও শাকসবজি ঝড়ে ভুট্টা ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন সবজি যেমন—ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও করলার মাচা ভেঙে পড়েছে।
লিচু ও আম: ঝোড়ো হাওয়ায় আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা।
কৃষকদের আর্তনাদ উপজেলার সিদলা ইউনিয়ন টান সিদলা, নামা সিদলা, মেচেরা গ্রাম সহ বিভিন্ন গ্রামের
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উক্ত বিভিন্ন গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম, মোঃ নূর উদ্দিন, জসিম পাটান, গোলাপ পাটান,আলমগীর, আবুল হোসেন, আজিজুল, সাঈদুল ইসলাম, জলিল মিয়া,কাঞ্চন মিয়া, ফারুক, কামাল, সোহেল, ওয়াহিদ, বাদল,ফারুক, খোকন, আমিনুল,নজরুল ইসলাম,হজরত আলী সহ অনেকই জানান, ধার-দেনা করে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলিয়েছিলেন। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে।
এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে, এখন পরিবারের মুখে কী তুলে দেব জানি না। অথচ আজ সারাদিন পার হয়ে গেলেও কৃষি অফিসের কেউ আমাদের একটু সান্ত্বনা দিতে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে আসেনি।”
এ দিকে সিদলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম ৮ নং ওয়াড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাপ মিয়া, ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মধু কিস্তি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও হোসেনপুরে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা যখন দিশেহারা হয়ে সরকারি সহায়তার আশায় পথ চেয়ে আছেন, তখন কৃষি অফিসের এমন নিরবতা ও দায়িত্বহীনতাকে চরম উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে স্থানীয় ফিল্ট কৃষি কর্মকর্তার সাথে মোটো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কৃষকদের দাবি, দ্রুত যেন সরকার ও কৃষি বিভাগ সরেজমিনে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply