সঞ্জিত চন্দ্র শীল,
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ১০ জুলাই বৃহস্পতিবার অতি বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ফাইপুটা বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথে স্থানীয় দু-একজন বাধা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। ফলে দক্ষিণ পুমদী, বারিক মাষ্টারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার শতাধিক কৃষকের ধানের বীজতলা টানা ২ দিন পানির নিচে ডুবে থাকে। শেষে কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ মাঠে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা । তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
দক্ষিণ পুমদী বারিক মাষ্টারের বাড়ি সংলগ্ন, ৬ নং ওয়ার্ডে পুমদী ইউনিয়নে গত কয়েকদিনের টানা অতি বৃষ্টিতে পুমদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ফাইপুটা বিলে প্রচুর পানি জমে যায়। ওই পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ স্থানীয় দু-একজনের জায়গার উপর দিয়ে। কিন্তু তারা পানি ছাড়তে বাধা দেওয়ায় বিলের পানি আর নামতে পারেনি।
ফলে বিলের চারপাশের একশোর বেশি কৃষকের রোপণ উপযোগী ধানের বীজতলা টানা ২ দিন পানির নিচে তলিয়ে থাকে। কৃষকরা জানান, এভাবে আরও ১ দিন থাকলে পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত। নতুন করে বীজতলা করতে হলে তাদের মৌসুমটাই শেষ হয়ে যেত।
বিপাকে পড়া কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়ে আজ ১০জুলাই তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে দক্ষিণ পুমদী, ফাইপুটা বিল এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের ডেকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনস্বার্থে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনওর নির্দেশনার পর দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে বীজতলা থেকে পানি নামতে শুরু করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা এমন দ্রুত উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন দক্ষিণ পুমদীর একশোর অধিক কৃষক। তারা জানান, বীজতলা বাঁচায় তাদের আমন মৌসুম বেঁচে গেল।
স্থানীয় কৃষক রাব্বি মিয়া বলেন, “২ দিন ধরে চোখের পানি ফেলছিলাম। পানি না নামলে সব শেষ হয়ে যেত। স্যার এসে নির্দেশ দেওয়ায় এখন পানি নামতেছে। আল্লাহ স্যাররে বাঁচায় রাখুক।”
আরেক কৃষক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। একটা বীজতলা নষ্ট হলে সারাবছর কষ্ট করতে হয়। ইউএনও স্যার সময়মতো না আসলে আমরা পথে বসতাম।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা
কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “কৃষকের ফসল রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। জনস্বার্থের কাজে কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্যোগের সময় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”
তিনি কৃষি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদকে বীজতলার ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান হোসেনপুরের পুমদী, সিদলা, জিনারীসহ নিচু এলাকায় অতি বৃষ্টিতে আরও কিছু বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দক্ষিণ পুমদীর ঘটনায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply