কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ইদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরনের তালিকা তৈরীতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুরোনো তালিকা দিয়ে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের প্রতিবাদে একটি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারন সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্নেলন করেছে। শনিবার দুপুর বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদে এ সংবাদ সম্নেলন করেন তারা। ফলে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে চাল বিতরনে অনিশ্চতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্র কাযার্লয় সুত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ২৬ হাজার ২১৪ টি কার্ডের বিপরীতে ২৬২.১৪০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বড়ভিটা ইউনিয়নের ২৬৩১ কার্ডের বিপরীতে ২৬.৩১০ মেট্রিকটন,পুটিমারী ৩৩০৬ কার্ডের বিপরীতে ৩৩.০৬০ মেট্রিকটন, নিতাই ২৭৮৭ বিপরীতে ২৭.৮৭০ মেট্রিকটন, বাহাগিলি ২৫১৭ কার্ডের বিপরীতে ২৫.১৭০ মেট্রিকটন, চাঁদখানা ২৬৩১ কার্ডের বিপরীতে ২৬.৩১০, সদর ইউনিয়নে ৩৬২৪ কার্ডের বিপরীতে ৩৬.২৪০ মেট্রিকটন, রণচন্ডি ২৫২৬ কার্ডের বিপরীতে ২৫.২৬০ মেট্রিকটন. গাড়াগ্রাম ২৭৫৪ কার্ডেও বিপরীতে ২৭.৫৪০ মেট্রিকটন, মাগুড়া ৩৪৩৮ কার্ডেও বিপরীতে ৩৪.৩৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব চাল বিতরনের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি ইউনিয়নে চাল বিতরন শুরু করা যায়নি।
সংবাদ সম্নেলনে বাহাগিলি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারন সদস্যরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুজাউদ্দোলা লিপটন চাল বিতরনের সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে সবার অগোচরে পুরোনো তালিকা দিয়ে চাল উত্তোলন করে গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন। নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা আছে চাল বিতরনের পুর্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তা কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী যাচাই বাছাই পুর্বক কমিটির স্বাক্ষরিত তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্র দপ্তরে জমা করে উপজেলা মানবিক সহায়তা কমিটির মিটিং করে তালিকা পাশ হলে তবেই সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, প্রশাসক কিংবা সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তির নামে ডিও দেয়া হয়। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন তা না করে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের মানবিক সহায়তা কমিটির মতামত না নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুজাউদ্দোলা লিপটনের নামে ডিও দিয়ে দেয়। তিনি চাল উত্তোলন করে কোথায় রেখেছেন তাও আমরা জানিনা। নিয়ম অনুযায়ী চাল উত্তোলন করে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে রাখতে হবে। তাছাড়া ওই চেয়ারম্যানকে ২৭২/২৬ নং হাইকোর্টের রায়ে অপসারন করা হয়েছে। তাঁরপরেও কিভাবে তাঁর নামে ডিও হয়।
বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজাউদ্দোলা লিপটন বলেন, নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারবনা।
উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ বলেন, গত ১০ মার্চ উপজেলা মানবিক সহায়তা কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছিল। ওই মিটিংয়ে নীতিমালা অনুযায়ী চাল বিতরন সম্পন্ন করার কথা বলা হলে মিটিংয়ে উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মিটিং শেষ না করেই বের হয়ে যান। পরে উপজেলা নিবার্হী অফিসার কিভাবে কি করেছে তা আমি জানিনা। চাল বিতরনে অনিয়ম দুনর্ীতি করতেই এমন সুযোগ করে দেয়া হতে পারে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্ লতিফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানরা যে তালিকা দিয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরনের জন্য বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চাল বিতরন শুরু হয়নি কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন , কিছু সমস্যার কারনে চাল উত্তোলনে দেড়ি হয়েছিল। তবে তিনি বলেন, আজ শনিবার মাগুড়া ও বড়ভিটা ইউনিয়নে বিতরন হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা নিবার্হী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার সরকারী নম্বরে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসএ্যাপে মেসেজ পাঠালেও তিনি কোন রিপ্লাই না দেয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply