হোসেনপুরে একটি ছোট সেতুর অভাবে দূভোগে হাজারো মানুষ: বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা।
মোঃ সুজন মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি,হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝি বাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টার বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তায় আজও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ব্রহ্মপুত্র শাখা নদের ওপর ওই ছোট সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি ও দূভোগ নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোসেনপুর উপজেলার অংশে খালের ওপর একটি সেতু না থাকায় প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। জরুরি অসুস্থ রোগী পরিবহনেও দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।
ভুক্তভোগিরা জানান, উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি খালের ওপারে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ঘরে তুলতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে সাবেক গ্রাম সরকার আবেদ আলী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট্ট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় কৃষক মোসারফ হোসেন জানান, আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান, পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই সাঁকো দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুম জানান এটি শুধু একটি গ্রামের নয়, কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। আমরা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক মাঝি জানান,এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে দ্রুত এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ সম্ভব। আমরা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। স্কুল শিক্ষার্থী আশিক জানান,প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। বর্ষাকালে আরও বেশি ভয় হয়। আমরা চাই এখানে একটি ভালো সেতু হোক, তাহলে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব। এলাকার প্রবীণদের ভাষ্যমতে,অতীতে সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে। মূলত: একটি ছোট্ট সেতুই বদলে দিতে পারে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। সহজ হবে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার কাজী নাহিদ ইভা জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুতই কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply