স্টাফ রিপোর্টারঃ
মোঃ ফয়েজ আহাম্মদ নিলয়
আমাদের মহাবিশ্ব অনেক অনেক বড়। এখানে আছে অসংখ্য গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ। আমাদের গ্যালাক্সির নাম মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা।
কিন্তু মিল্কিওয়ে নামটা কীভাবে এল? জানব। তবে, তার আগে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি নিয়ে একটু কথা বলে নিই। এটি একটি বিশালাকার সর্পিল ছায়াপথ। এর ব্যাস, মানে এক পাশ থেকে অপর পাশের দূরত্ব প্রায় ১০০,০০০ থেকে ১২০,০০০ আলোকবর্ষ। আলোকবর্ষ হলো আলোর এক বছরে অতিক্রান্ত দূরত্ব। এটা প্রায় ৯.৪৬১ ট্রিলিয়ন কিলোমিটারের সমান! এক ট্রিলিয়ন হলো এক লক্ষ কোটির সমান। তাহলেই ভাবো, মিল্কিওয়ে কত বড়! সত্যি বলতে একে বড় বললেও হয়ত সঠিক হবে না। বলতে হবে প্রকাণ্ড বড়! আনুমানিক দশ হাজার কোটি গ্রহ, চল্লিশ হাজার কোটি তারকা এবং অন্যান্য উড়ন্ত বস্তুর সমন্বয়ে মিল্কিওয়ে গঠিত।
এটা শুধুমাত্র অনুমান, আমরা সত্যিই এর বিশালতাসহ অনেক কিছুই সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানি না। আকাশগঙ্গা সেখানে একমাত্র ছায়াপথ নয়। এটা আসলে স্হানীয় গ্রুপ হিসেবে পরিচিত একটি বৃহৎ ছায়াপথের গুচ্ছ অংশ। এই গ্রুপ প্রায় ৫০ টিরও বেশি ছায়াপথ নিয়ে গঠিত। আমাদের গ্যালাক্সিটি এদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
এই গ্রুপের সবচেয়ে বড় সদস্য হলো অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি (এর আরেকটি নাম M31)। আমাদের সৌরজগৎ আকাশগঙ্গা সর্পিল আকৃতির চাকতির মধ্যে অবস্থিত এবং তার কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ধুলো এবং গ্যাসের ঘনত্বের মধ্যে অরায়ন নামক বাহুতে অবস্থিত।
এবার দেখা যাক, কেন এটাকে মিল্কিওয়ে বলা হয়। আমাদের ছায়াপথটির নাম এর চেহারা বা বাহ্যিক দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। তোমরা যদি কখনও মিল্কিওয়ের ছবি দেখো, তাহলে অদৃশ্য অস্পষ্ট উজ্জ্বল নক্ষত্র দ্বারা সমস্ত রাতের আকাশ জুড়ে ঘিরে থাকা একটি ধূসর ধাবমান আলোর ব্যান্ড লক্ষ্য করবে।
প্রাচীন রোমানরা একে ল্যাকটিয়া ভিয়া’ নামে ডাকত, যার আক্ষরিক অর্থ হয় ‘মিল্কিওয়ে বা দুধেল রাস্তা’। এছাড়াও ‘গ্যালাক্সি’ শব্দটি ‘মিল্ক’ এর গ্রিক প্রতিশব্দ থেকে আসা। যদিও আমাদের গ্যালাক্সিকে দুধের সাথে সম্পর্কিত কিছু বিষয় বলে কিছু প্রমাণ নেই তাই কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন যে, এমন নামের জন্য সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত কারণ হলো রাতের আকাশে এর দৃশ্যমান রূপ।
মিল্কিওয়ে এর প্রান্তে দেখতে পাওয়া দুধের মতো ব্যান্ড ঘনত্বপূর্ণ লক্ষ লক্ষ তারকার সমন্বয়ে গঠিত, যা মিল্কিওয়ের একটি অংশ এবং অবিশ্বাস্যভাবে উজ্জ্বল। মিল্কিওয়ে এর সাধারণ নাম হলেও, বিভিন্ন এলাকার মানুষ একে আলাদা নামে ডাকে। যেমন নরওয়ের অধিবাসীরা একে ‘মেলকিভিযান’ বলে। চীনাদের জন্য একটি নাম আছে যা আক্ষরিকভাবে সিলভার রিভার বা ‘রৌপ্য নদী’ নামে পরিচিত। জার্মানিতে এটি ‘মিল্কস্ট্র্যাস’ নামে পরিচিত। এটি হিন্দিতে ‘আকাশ-গঙ্গা’ নামে পরিচিত। বাংলায়ও তাই। মেঘমুক্ত আকাশ একে আসলেই নদীর মতো লাগে। ভাষা এবং সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে একে একটি রাস্তা, পথ বা নদীপথ ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষিত করা হোক না কেন, আসলে এসব নামের জন্য আমাদের রাতের আকাশে মিল্কিওয়ের চেহারাটিই মূল কারণ?
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply