এই পৃথিবীতেই জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিচ্ছবি:
একটি আত্মোপলব্ধি
আলহাজ্ব সোহেল আহমেদ :……
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক?
এ কেবল পরকালের অদৃশ্য জগৎ নয়, মানুষের কর্ম ও অনুভূতির মাঝেই এর ছায়া বিদ্যমান। এই পৃথিবীতেই মানুষ তার মানসিক অবস্থা ও আমলের মাধ্যমে জাহান্নামী যন্ত্রণা কিংবা জান্নাতী প্রশান্তির আগাম স্বাদ আস্বাদন করে।
প্রাচুর্যের আবরণে অন্তরের ‘জাহান্নাম’
একদল মানুষ অঢেল সম্পদের মালিক, কিন্তু হারাম-হালালের কোনো বিচার তাদের নেই। লোকদেখানো দান-সদকা ও ক্ষমতার মোহে তারা ডুবে থাকে। ব্যাংক ঋণ, সুদ, জমি দখল আর রাজনীতির দাপটে তারা বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে এক অসহ্য হতাশায় হাবুডুবু খায়।
শত কোটি টাকার সম্পদ আর বিলাসী অট্টালিকা থাকা সত্ত্বেও রাতে তাদের স্বাভাবিক ঘুম আসে না; শান্তির খোঁজে পাপাচার, নেশা ও সাময়িক আনন্দের পেছনে ছুটতে হয়।
দিনশেষে এরা অশান্তি আর গোনাহ ছাড়া কিছুই উপার্জন করতে পারে না। হঠাৎ কোনো কঠিন ব্যাধি বা মহামারী এলে সমস্ত সম্পদ, নারী, গাড়ি ও বাড়ি ফেলে তাদের একাকী বিদায় নিতে হয়। এই যে আত্মিক শূন্যতা, ভয় আর অশান্তির জীবন—এ তো ইহকালেই এক প্রকার জাহান্নামের আগুন।
কুরআনের ঘোষণা: আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয়ই তার জীবন হবে সংকীর্ণ ও অশান্তিময়।”* (সূরা ত্বাহা: ১২৪)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেই ধনী হওয়া যায় না,
আসল ধনী তো সেই ব্যক্তি, যার অন্তর ধনী (আত্মতুষ্ট)।
(সহিহ বুখারি: ৬৪৪৬)
প্রশান্ত আত্মার পার্থিব ‘জান্নাত’
অপরদিকে সেই মানুষগুলোই এই পৃথিবীতে জান্নাতের সুবাতাস আস্বাদন করছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখানো সরল পথে জীবন পরিচালনা করে। তাদের অন্তরে লোভ, কামভাব, অহংকার বা বেহিসাবি সম্পদের মোহ নেই।
তারা সাধ্যমতো দান করে, একাগ্রচিত্তে সালাত আদায় করে, আত্মশুদ্ধির জন্য সিয়াম পালন করে এবং এতিম ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়। বিত্তবানদের কাছে হয়তো তাদের কদর কম, কিন্তু রাতের শেষ প্রহরে প্রভুর সিজদায় অশ্রু ফেলে আর দরূদ পাঠ করে তারা যে পরম তৃপ্তি পায়, তা পৃথিবীর কোনো ধন-সম্পদ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। চাহিদা কম থাকায় তাদের কোনো অভাবও থাকে না।
*কুরআনের ঘোষণা:* আল্লাহ তাআলা বলেন,
জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই কেবল অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” (সূরা আর-রা’দ: ২৮)
মুমিনের প্রকৃত চুক্তি:
কুরআনে এসেছে,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন, এর বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।
(সূরা আত-তাওবাহ: )
জীবন এক ক্ষণস্থায়ী যাত্রাবিরতি:
রুহের জগৎ থেকে মায়ের গর্ভ হয়ে এই পৃথিবীতে আমরা এসেছি সামান্য কিছু সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দিতে। এখান থেকে আমাদের যেতে হবে কবরের জগতে, আর শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত গন্তব্যে—যেখানে অপেক্ষা করছে অনন্তকালের জান্নাত কিংবা জাহান্নাম।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
দুনিয়া মুমিনের জন্য বন্দিশালা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত।”
(সহিহ মুসলিম: ২৯৫৬)
বাহ্যিক চাকচিক্য কখনোই শান্তির মাপকাঠি হতে পারে না। পার্থিব মোহের জাহান্নাম থেকে বেঁচে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে মনকে তৃপ্ত রাখতে পেরেছে, এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে তারাই প্রকৃত জান্নাতী শান্তিতে বসবাস করছে।
আসুন আমরা সবাই বেশি বেশি দূরুদ ও সালাম জানাই।
কারন প্রকৃত নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেমিকরা এ জগত ও পরজ গতে শান্তি লাভ করবে, জান্নাত ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ।
আমিন।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল আল্লাহ সল্লাল্লাহু আলান নাবিইল উম্মী
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply