পঙ্গুত্ব আর অর্থাভাবে দিন কাটছে সাবেক যুবদল নেতা মাখন মিয়ার, সহযোগিতার আকুতি
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
একসময় যার বাড়ি ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়—আজ সেই মানুষটিই শারীরিক পঙ্গুত্ব আর চরম আর্থিক অনটনে বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাচ্ছেন। জীবন-যুদ্ধের কাছে পরাজিত হতে বসা এই অসহায় মানুষটির নাম মাখন মিয়া। তিনি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পদুরগাতী এলাকার মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে এবং সাবেক আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
উপার্জনের পথ বন্ধ, অনিশ্চিত চিকিৎসা
একসময় স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য করে মাখন মিয়ার সংসার বেশ ভালোভাবেই চলত। বিএনপির প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায় সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন তিনি। তবে আজ শারীরিক অক্ষমতা ও পঙ্গুত্বের কারণে তাঁর সংসারের চাকা স্তব্ধ। সংসার চালানোই যেখানে অসম্ভব হয়ে পড়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় ও নিয়মিত চিকিৎসা জোগাড় করা তাঁর পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
অত্যাচার ও মামলার অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অপরাধে মাখন মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালায়। সেই শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁর নামে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও তাঁরা জানান।
বাড়িতে নেতাকর্মীদের ভিড় ও শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে অসুস্থ ও পঙ্গু সাবেক এই ত্যাগী যুবদল নেতার খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে যান স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁরা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন:
সাদ্দাম হোসেন চাঁন মিয়া — সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপি
হেলাল উদ্দীন — সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদল
নাজিমুদ্দিন — নেতা, হোসেনপুর পৌর বিএনপি
লিটন মিয়া — সহ-সভাপতি, উপজেলা শ্রমিক দল
সবুজ মিয়া — সহ-সভাপতি, উপজেলা কৃষক দল
দলের জন্য অবদান ও সহায়তার আহ্বান
পরিদর্শনকালে নেতাকর্মীরা বলেন, “মাখন মিয়া বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। রাজপথের আন্দোলনে তিনি যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনি নিজের বাড়িটিকেও দলীয় কার্যক্রমের জন্য উন্মুক্ত রেখেছিলেন। আজ তিনি অসুস্থ, অসহায় ও নিঃস্ব। এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।”
তারা মাখন মিয়ার সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবান মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানান।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply