রিপোর্ট: শামীম আহমেদ।
কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরবে আবারও আলোচনায় এসেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এই মরণব্যাধি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শীর্ষ মাদক কারবারি জাহিদ হোসেন ভোলার সহধর্মিণী রাবেয়া বেগমকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ।
গত সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর আমলাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই শাহ আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে অংশ নেয়। এসময় রাবেয়ার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪৩, তারিখ ২৫/০৫/২০২৬। মামলার বাদী হয়েছেন এসআই সাখাওয়াত হোসেন নিজেই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার সেগেন্ট অফিসার উপ-পরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, গ্রেফতারকৃত রাবেয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। শুধু রাবেয়া নন, তার স্বামী আজিজুল হক ভুলা ওরফে জাহিদ হোসেন ভোলা’র বিরুদ্ধেও ভৈরব, কুলিয়ারচর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাবেয়ার বিরুদ্ধে ভৈরব থানার এফআইআর নং-৯/১৩২, তারিখ ০৬ এপ্রিল ২০১৯, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার স্বামী মোঃ জাহিদ হোসেন @ ভোলা (৫১), পিতা মৃত ছিদ্দিক মিয়া, গ্রাম- কমলপুর আমলাপাড়া, থানা- ভৈরব, জেলা- কিশোরগঞ্জের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভুলা ও তার স্ত্রী রাবেয়া নিজ বাড়িকে কেন্দ্র করে গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে, বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা ও নানা ধরনের অপরাধ। অনেক মেধাবী তরুণ আজ মাদকের করাল গ্রাসে জীবন ধ্বংস করে ফেলছে। তাই সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, বারবার গ্রেফতার ও জামিনের সুযোগ নিয়ে যেন কোনো মাদক কারবারি পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একইসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ভৈরব থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply