
প্রতিনিধি তারেক আহম্মেদ হেলাল :ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ারুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,জামিনের খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাকে কারাফটকে আনা হয়। পরে জামিনের কাগজপত্র যাচাই করে ৭টা ৫০ মিনিটে স্বজনেদের হাতে তুলে দিয়েছি। এদিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার সময় ভক্তরা মাহিকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় কারও সঙ্গে কথা বলেননি মাহি। তবে হাত উঁচিয়ে ভক্তদের ভালোবাসার জবাব দেন।
এর আগে মাহির স্বামী রকিব সরকারের সঙ্গে ওমরাহ হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তবে মাহির সঙ্গে দেশে ফেরেননি রকিব, তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সৌদি আরব থেকে ফেরার পর আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাহিকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে দায়ের হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে গ্রেফতার করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি)গোয়েন্দা বিভাগ।
শনিবার (১৮ মার্চ)বেলা ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ইব্রাহিম হোসেন।
ইব্রাহিম হোসেন জানান, ওমরা পালন করতে মাহি সউদী আরব গিয়েছিলেন। আজ দেশে ফিরবেন- এমন খবরে শনিবার ভোর থেকে জিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের দলটি বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে কালো বোরকা পরে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর বেলা ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা (আইসিটি)আইনের মামলায় মাহিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মাহি সউদী আরবের মক্কা শহর থেকে শুক্রবার (১৭ মার্চ) ভোরে ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে স্বামী রকিব সরকারের গাড়ির শোরুম ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ করেন।
এ সময় তিনি দাবি করেন,ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে ‘সনিরাজ কার প্যালেস’ নামে তার স্বামীর একটি গাড়ির শোরুম রয়েছে। সেই শোরুমে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তার শোরুমের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা শোরুমের বিভিন্ন আসবাব, দরজা-জানালার কাঁচ, টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেছে। শোরুমের সাইনবোর্ডও খুলে ফেলেছে। দুর্বৃত্তরা তার অফিসকক্ষ তছনছ করে টাকাপয়সা লুট করে নিয়ে গেছে।
ইসমাইল হোসেন ওরফে লাদেন ও মামুন সরকারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন মাহি। ফেসবুকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ নেয়ার অভিযোগ তোলেন মাহি। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মাহিয়া মাহি ও রকিব সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) রাতে মাহির বিরুদ্ধে বাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রোকন মিয়া বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মারধর, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি ও জমি দখলের অভিযোগ এনে মাহি ও তার স্বামী রকিব সরকারকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেন স্থানীয় ইসমাইল হোসেন। এ মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে গ্রেফতার হলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি
এদিকে মাহিকে গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া ও বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গণমাধ্যমকে বলেন, “মাহি বোরকা পরে বিমান থেকে নেমেছিলেন। মামলার বিষয়টি তিনি আগেই জেনেছিলেন। বিমানবন্দরে নেমে গ্রেপ্তারও হতে পারেন। সেই আশঙ্কা থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে মাহিকে হুইল চেয়ারেও দেখা যায়।”
ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি আরব থেকে বিজি ৩৩৬ ফ্লাইটে জেদ্দা থেকে মাহি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজের ৬ নম্বর বেল্টে তার লাগেজ ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে পারেননি তিনি। বিমান থেকে নামার পর ইমিগ্রেশন অফিসাররা তার ইমিগ্রেশন শেষ করেন। এরপর আমাদের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়।
তবে এ সময় তার স্বামী রকিব সরকার মাহির সঙ্গে ছিলেন না। পুলিশ নিশ্চিত করেছে তিনি পলাতক। বর্তমানে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাহিয়া মহি। কিছুদিনের মধ্যেই মা হবেন তিনি। এর মধ্যেই গ্রেপ্তার হলেন এই নায়িকা।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply