ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য”প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) :
হোসেনপুর উপজেলার চর জিনারী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোজাম্মেল হক আজ ৮ আগষ্ট রোজ শনিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে “ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য”প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার চর জিনারী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোজাম্মেল হক (৪৫) এর সাথে একই এলাকার মানিক মিয়া (৩৩), নিজাম উদ্দিন (৫৫), বড় ছেলে মজিবুর আলম
রফিক মিয়া (২৭) সহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীরা লোভের বশবর্তী হয়ে জোরপূর্বক মোজাম্মেল হকের জমি দখলের পায়তারা করে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস হলেও বিবাদীরা তা মানতে রাজি হয়নি।
ঘটনার বিবরণে মোজাম্মেল হক উল্লেখ করেন, গত *৮ এপ্রিল ২০২৫* আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার ছোট ভাই মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩০) হোসেনপুরের চর হাজীপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন। এসময় বিবাদীগণ সেখানে গিয়ে আশরাফুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। খবর পেয়ে মোজাম্মেল হক সেখানে গেলে বিবাদীরা তাকেও গালিগালাজ শুরু করে।
একপর্যায়ে ২নং বিবাদী “শালার বেটাকে জীবনের জন্য শায়েস্তা করে দে” বলে হুকুম দিলে ১নং বিবাদী পূর্ব থেকে সাথে রাখা কিরিচ দিয়ে মোজাম্মেলের মাথায় কোপ মারার চেষ্টা করে। মোজাম্মেল হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে কোপটি তার বাম হাতের কব্জির উপর ও নিচে লেগে মারাত্মক হাড়কাটা রক্তাক্ত জখম হয়।
এসময় ২নং ও ৩নং বিবাদী লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তার পিঠ, বর্জ্য ও সারা শরীরে এলোপাতাড়ি মারপিট করে নীলাফুলা জখম করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়রা আহত মোজাম্মেলকে উদ্ধার করে প্রথমে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখান থেকে তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা মারপিটের পর হুমকি দিয়ে বলে, “এই ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পথে-ঘাটে পেয়ে নাশকতা করে ফেলবে।”
এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এ ৬ জনকে আসামী করে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ সি.আর আদালত-৩ এ মামলা নং- সি.আর ৫০/২০২৬।দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
বাদী মোঃ মোজাম্মেল হক অভিযোগ অনুযায়ী বলেন তফসিল বর্ণিত জমি তার দাদা খরিদা সূত্রে সি.এস রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন। পরে এস.এ খতিয়ানে তার দাদার নামে এবং আর.এস জরিপে ৪৩ নং খতিয়ানে তার পিতা আঃ রেজ্জাকের নামে রেকর্ড হয়। পিতার মৃত্যুর পর মোজাম্মেল হক পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগ-দখল করে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
কিন্তু ইদানিং আসামীরা একদলভুক্ত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু হয়ে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করছিল।
উল্লেখ্য গত *৩১/০১/২০২৬ ইং তারিখ শনিবার সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময়* বাদী তার স্বত্ব দখলীয় জমিতে কাজ করছিলেন। এসময় আসামীরা দা, লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে।
১নং আসামী নিজাম উদ্দিন বাদীকে জমি ছেড়ে চলে যেতে বললে তিনি প্রতিবাদ করেন। তখন ৬নং আসামী মানিক মিয়া বলেন, “শালার পুতরে খুন করিয়া জমি দখল করিয়া নে”। একপর্যায়ে ১নং আসামী নিজাম বলেন, “এই আমাদের জমি, দখল নিলাম”।
এরপর সকল আসামী অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাদীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে খুন করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। বাদী জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বাদী ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(১) এর (ক), ৪(২), ৪(৩), ৪(৪), ৭(১), ৭(২), ৭(৩), ৮(১), ৮(২), ১৬ ও ২০(১), ২০(২) ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, “আমার দাদা-বাবার রেখে যাওয়া জমি তারা জোর করে নিতে চায়। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে আসামীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply