সঞ্জিত চন্দ্র শীল
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের এই সহায়তায় দুই ইউনিয়নের ৮৮২ জন কৃষক আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা পেলেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার সিদলা ইউনিয়ন ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদলা ইউনিয়নের ৫৩১ জন এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৩৫১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা এবং ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান, সিদলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইকবাল হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম, পুমদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার মুদাসিল হায়দার আলমগীর, গোবিন্দপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার মাহবুব হাসান, সিদলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান ও তারিকুল হাসান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে যেসব কৃষক ফসলের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে সহায়তা দেওয়া হলো। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বাকি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝেও নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই যেন সহায়তা পায়, সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করছি। কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
নগদ অর্থ ও চাল পেয়ে খুশি প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। সিদলা ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “টানা বৃষ্টিতে আমার জমির ধান পচে গেছে। এই ৩ হাজার টাকা ও চাল আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা। সরকারের এই সহযোগিতা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবো।”
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভারী বর্ষণে উপজেলার ফসল আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ধাপে ধাপে সব কৃষককে সহায়তার আওতায় আনা হবে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply