বাগান বাজার: “কিসের বিবেক, কিসের নীতি? শর্টকাট উপায়ে রাতারাতি কোটিপতি হতেই হবে!”—এমনই এক আত্মঘাতী ও অনৈতিক মানসিকতা গ্রাস করছে সীমান্তঘেঁষা বাগান বাজারের একাংশের যুবসমাজকে। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার সহজ রাস্তা হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত থেকে মাদক এনে স্থানীয় তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর পথ। যার সর্বশেষ প্রমাণ মিললো গতকালের একটি চাঞ্চল্যকর অভিযানে।
গতকাল বাগান বাজারের ৭নং ওয়ার্ডের বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আরিফ উচ্চশিক্ষিত, যিনি সদ্য স্নাতক (ডিগ্রি) পাস করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একজন শিক্ষিত যুবকের হাত দিয়ে এভাবে কেজি কেজি গাঁজা পাচার ও বিপণনের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেখানে এই তরুণদের মেধা ও শ্রম দেশের উন্নয়নে কাজে লাগার কথা, সেখানে তাদের মাদকের মরণব্যাধিতে জড়িয়ে পড়া পুরো বাগান বাজারের ভবিষ্যৎকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ ও সামাজিক বিপর্যয়:
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার করে এই মাদক আনা হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার লোভে যুবসমাজকে ধ্বংসের এই খেলায় মেতে উঠেছে। এই মাদক শুধু বাগান বাজারেই নয়, ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলেও।
গতকালকের এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সমাজকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—”বাগান বাজার কোন দিকে যাচ্ছে? আমাদের ঘুম কবে ভাঙবে?” সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে—তা নিয়ে এখনই প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী বাগান বাজারকে মাদকমুক্ত করতে এবং সীমান্ত চোরাচালান রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের পেছনে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply