আজ ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা রাখায় জনজীবন অতিষ্ঠ

প্রতিনিধি : এনামুল হক

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৯নং কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চরবনবাড়ীর এলাকার সিরাজগঞ্জ- কড্ডা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌর ডাস্টবিন স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই স্থাপনার বিশাল প্রশস্ত জমি থাকা সত্ত্বেও আবর্জনা বহনের পরিবহনগুলো মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে রেখে যাচ্ছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, কার্টুন, কর্কশিট, কাগজ, পলিথিন, বস্তা, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, উচ্ছিষ্ট খাবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মহাসড়কে। ফলে মহাসড়কের প্রশস্ততা হ্রাস পেয়েছে।

আবার শুরু হয়েছে বর্ষাকালের বর্ষণ।জমে থাকা বর্ষণের পানি ও আবর্জনা থেকে জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা।এতে পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পানি ও আবর্জনা রাস্তার উপর জমাট বেধে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে।যার কারনে প্রতিদিন ঘটচ্ছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। পরিবেশদূষণের পাশাপাশি সৌন্দর্যও বিনষ্ট হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ,বেলকুচি, এনায়েতপুর,শাহজাদপুর উপজেলা এবং ঢাকা, টাঙ্গাইলসহ দেশের পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চল থেকে সিরাজগঞ্জগামী যানবাহন গুলো সিরাজগঞ্জ শহরে ঢুকতে হলে এ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়েই ঢুকতে হয়। অথচ আঞ্চলিক মহাসড়কের এই অংশের এমন আবর্জনার ভাগাড় সিরাজগঞ্জে সৌন্দর্য সম্পর্কে অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

দেখা যায়, নাক চেপে ধরে এ জায়গাটি পার হচ্ছে পথচারীরা। আর যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রীরাও ময়লার স্তুপের কাছে আসার আগেই কেউ রূমাল দিয়ে কেউ পড়নের কাপড় দিয়েই নাক চাপছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো যানবাহন চলাচল করে থাকে।
বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা ছাড়াও মহাসড়কটি দিয়ে শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ শহরে যাতায়াত করে থাকেন। এতে প্রতিদিনই তাঁদের বিড়ম্বনায় শিকার হতে হয়।

চরবনবাড়ীয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেওয়া ও চরবনবাড়ীয়ার যুবক আজমীর বলেন, আমাদের এখান হতে এ রাস্তার পাশে থেকে ময়লা-আবর্জনা স্থান অন্যত্রস্থানে নেওয়া হোক, বলে কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ৯নং কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুস সবুর সেখ জানান, যে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা রাখায় দীর্ঘ কয়েক বছরে এলাকাবাসী ও পথচারীরা চলাচলে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না, অনেকে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। মাদক বিক্রি ও সেবনকারীরা এখানে স্থান বেছে নিয়েছেন। অনেকে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ ও অসুস্থজনিত কারণে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন বাসিন্দা ভিটে মাটি বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও এই বেহাল পরিবেশের কারণে কেউ ক্রয় করতে চায় না। এই বেহাল দশাকে পুঁজি করে ক্রেতারা মূল্য পানির দরে জমি ক্রয়ের আগ্রহ দেখায়।

তাই কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকষণ করছি এ ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হোক।

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পৌরসভার নিদিষ্ট ও নিজস্ব স্থান ও এখানে ময়লা-আবর্জনা রাখার সু-ব্যবস্থার জন্য মাসে ৮০ হাজার করে টাকা ব্যয় করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category