আজ ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মিঠামইনে জাল দলিল চক্রের সদস্য বাছির গ্রেপ্তার

প্রতিনিধি রিমেল ফকির : কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জাল দলিল সম্পাদন করতে গিয়ে বাছির উদ্দিন নামে এক যুবক আটক হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় মিঠামইন বাজরের শীতল কম্পিউটার নামে একটি কম্পিউটারের দোকানকে সীলগালা করে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মিঠামইন সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী দিপালী রানী পাল বাদী হয়ে বাছির উদ্দিনসহ জাল দলিল চক্রের তিনজন সদস্যের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় শুক্রবার (২৭ মে) মামলা (নং-১০) করেছেন।

মামলার অন্য দুইজন আসামির নাম জহির উদ্দিন ও শাহেরুল আলম তপন। তাদের মধ্যে জহির উদ্দিন সীলগালা করা শীতল কম্পিউটারের মালিক।

গ্রেপ্তার হওয়া বাছির উদ্দিন উপজেলার মহিষার কান্দি বেড়িবাঁধের হারিছুল হকের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাছির উদ্দিন দলিল ও রেকর্ড মূলে ৩৬ শতাংশ জায়গার মালিক। কিন্তু সরকার কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের বেশি টাকা পাওয়ায় লোভে সে ৩৬ শতাংশের পরিবর্তে ৭২ শতাংশ ভূমি দেখিয়ে ২০১৬ সালে একটি জাল দলিল করে। দলিলে দুইজনকে দাতা দেখানো হলেও প্রকৃত পক্ষে দলিলের দাতা একজন।

জমি বিক্রয়ের জন্য গত বুধবার (২৫ মে) মিঠামইন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বাছির উদ্দিন দলিলটি দাখিল করে। সে রেকর্ডের জমি ৩৬ শতাংশের মধ্যে ৭২ শতাংশ উল্লেখ করে জাল দলিলটি সৃষ্টি করে।

বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রার সুজন বিশ্বাসের নজরে আসলে তার সন্দেহ হয়। তিনি দলিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জাল দলিল হিসাবে সনাক্ত করেন।

সাব-রেজিস্ট্রার সুজন বিশ্বাস জানান, বাছির উদ্দিন একটি দলিল নিয়ে আসলে প্রথমে তাকে সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে দলিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জাল প্রমাণ হলে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসাবে প্রথমে তাকে পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে থানায় পাঠিয়ে দেন।

প্রকৃতপক্ষে বাছির উদ্দিন ৩৬ শতাংশ ভূমির মালিক। সে দুইজন দাতা দেখিয়ে ৭২ শতাংশের একটি দলিল নিয়ে আসে। দলিলটি সম্পূর্ণ জাল।

এ ব্যাপারে অফিস সহকারী দিপালী রানী পালকে বাদী করে তিনজনের বিরুদ্ধে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মিঠামইন থানার ওসি মো. জাকির রব্বানী জানান, এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী দিপালী রানী পাল বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি এসআই গণেশ চন্দ্র শীলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাছির উদ্দিন নামে জাল দলিল চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে চক্রের আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে। এর মধ্যে মিঠামইন বাজারে শীতল কম্পিউটার নামে একটি দোকান সন্দেহের তালিকায় থাকায় এটিকে সীলগালা করা হয়েছে। এ দোকানের মালিক জহির উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মিঠামইন থানায় জাল দলিল চক্রের তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category