আজ ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মানবাধিকার, ভোটাধিকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়: খসরু

বিশেষ প্রতিনিধি আমান উল্লাহ :বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলটির বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মানবাধিকার, ভোটাধিকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বিএনপি’র বিদেশ নীতি, বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাবেক এই মন্ত্রী। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি’র পররাষ্ট্রনীতির মূল হচ্ছে- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আর পাশের দেশগুলো সঙ্গে তো এই নীতি আরও বেশি প্রযোজ্য। চীনের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক স্বাভাবিক বলেও মত তার।

আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কেমন হতে পারে?

খসরু: নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কেমন হতে পারে সেটা তারাই বলতে পারবে। তবে সবাই এই দেশে একটা নির্বাচিত বৈধ সরকার দেখতে চায়। কারণ বৈধ সরকার না হলে যে রাষ্ট্রের সঙ্গে তারা ডিল করবে- এটাতে তো সমস্যা হবে। আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার, আইনের শাসন, ভোটাধিকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণতন্ত্র এগুলো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। কারণ আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইউনিভার্সেল হিউম্যান রাইটস, ইউএন ডিক্লেয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটসে আমরা স্বাক্ষরকারী। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে একটি বৈধ সরকার গঠিত হবে। একটা দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া মানে হচ্ছে তার সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া। এটাতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এই বিষয়ে সকলের মতামত থাকবে। কারণ এভাবে তো একটা দেশ চলতে পারে না।

তাদের কাছে বিএনপি’র প্রত্যাশা কি?

খসরু: বাংলাদেশে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের মানুষ এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোও চাচ্ছে। এখানে পক্ষ নেয়ার তো কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। মূলত সবাই একটা অবাধ গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। কোনো দলের পক্ষে থাকার বিষয় তো এখানে আসছে না। কোনো দলের পক্ষে যাওয়ার তো প্রয়োজনীয়তা নেই। এটাতো কেউ প্রত্যাশাও করে না।

ভারতের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক কেমন? 

খসরু: বিএনপি’র পররাষ্ট্রনীতির মূল হচ্ছে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আর পাশের দেশগুলো সঙ্গে তো আমাদের এই নীতি আরও বেশি প্রযোজ্য। তাদের সঙ্গে আমাদের বৈরিতার কোনো প্রয়োজন তো নেই। এই অঞ্চলের সবাইকে নিয়ে তো আমাদের উন্নতির দিকে যেতে হবে। আমাদের সকলকে অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, সাংবিধানিক, ভোটাধিকার, মানবাধিকার আদায়ের জন্য এই অঞ্চলের সবার একটা কমন ঐক্যমত থাকার দরকার আছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের এই অঞ্চল তথা সারাবিশ্বের মধ্যে যারাই গণতন্ত্র বিশ্বাস করে তাদের সবাইকে একটা ঐক্যমতে থাকতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভারতের মনোভাব?

খসরু: ভারতের নীতি কেমন হবে সেটা তো আমার বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা চাইবো ভারতসহ সকল গণতান্ত্রিক দেশগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানুষের যেমন প্রত্যাশা ঠিক তেমনই একটা প্রত্যাশা থাকা উচিত একটি নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার যাতে দেশ পরিচালনা করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার মাধ্যমে দেশের মানুষের যে অধিকারগুলো কেড়ে নেয়া হয় এটা কারোর কাছেই গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয়। এটা সকলের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।

এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন রয়েছে কিনা?

খসরু: চীনের সঙ্গে শুধু না আমাদের কারও সঙ্গে সম্পর্কের কোনো মতভেদ নেই। আমি তো চীনের সঙ্গে বিএনপি’র কোনো বৈরিতা দেখতে পাচ্ছি না। বাংলাদেশের মানুষ আজকে যে সংগ্রাম করছে এর জন্য আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশের সাহায্য চাওয়ার বিষয়ে…

খসরু: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। সরকার যদি দেশে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করে দেয় তাহলে তো কারোরই সহযোগিতার প্রয়োজন হবে না। যে কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এগুলো থেকে সরে দাঁড়ালেই তো হয়। তারা একবার আমেরিকার কাছে অনুরোধ করছে আরেকবার প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে যাচ্ছে, তাদের অনুরোধ করছে। এর ফলেই প্রতীয়মান হয় যে, এই সরকার কতোটা ব্যর্থ। সরকার মূলত নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে বলেই সবার কাছে এমন সাহায্য চাইতে হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন আর্জি ভারতীয়রা কীভাবে নিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমার কাছে পুরোপুরি হাস্যকর মনে হয়েছে। সরকার এসব করে নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় তো নিজেরাই দিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন কাজ জাতি হিসেবে আমাদের জন্য মর্যাদা হানিকর। কারণ একটা জাতির মর্যাদা ধরে রাখাই সরকারের কাজ। কিন্তু এই সরকার জাতির মর্যাদা বার বার ক্ষুণ্ন করছে।

জাতীয় সরকার এবং আগামীর আন্দোলন নিয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি’র আলোচনা কতদূর?

খসরু: সব দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমাদের অবস্থানের বিষয়ে তাদের বলেছি, আলোচনার মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো আমরা সমাধান করবো। আশা করছি আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। কারণ এখানে তো দ্বিমত করার কিছু নেই। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারাই শামিল হবে তাদের নিয়েই একটি জাতীয় সরকার হবে। দেশের বর্তমান যে অবস্থা এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আমরা সকলেই ঐক্যমত পোষণ করছি।

আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র নেতৃত্ব কে দেবে?

খসরু: বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এর নেতৃত্ব দিবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার কিছুই নেই। কারণ তারেক রহমান খুব সুদৃঢ়ভাবে দল এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আগামী নির্বাচন কেমন হবে বলে মনে করেন?

খসরু: আগামীতে নিরপেক্ষ সরকার ব্যতীত কোনো নির্বাচন হবে না। এটা বার বার প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে কেমন নির্বাচন হয়। একটা নিরপেক্ষ সরকার দায়িত্ব নিয়ে এটা নিশ্চিত করবে যাতে সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হয়। সেখানে সব দল অংশগ্রহণ করবে। আর জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে তারাই সরকার গঠন করবে।

আন্দোলনের জন্য বিএনপি’র প্রস্তুতি কেমন?

খসরু: এই সরকার যদি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে তাহলে তাদেরকে তো আন্দোলনের মাধ্যমে হটাতে হবে। আর এই আন্দোলনের জন্য বিএনপি এবং সারা জাতি প্রস্তুত।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন?

খসরু: বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক যে অবস্থা এ সময় তার বাইরে চিকিৎসা না হলে এর সমাধান হবে না। ওনার এখন স্প্যাশালাইজড ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। তাই উনাকে উন্নত চিকিৎসা না দেয়া হলে যেকোনো সময় যেকোনো সমস্যা হতে পারে। আর এমন কিছু হলে এর জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category