আজ ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বিএমএসএফ-এর আইনী সহায়তা পাচ্ছেন সাংবাদিক গোলাপ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাদেক মিয়া : মিঠামইনে পুলিশের করা আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আসামি সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপসহ ৩জনের বিরুদ্ধে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির জন্য ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক দিনটিকে ধার্য‍্য করেছেন। এদিকে মামলার মূল আসামি শেখ হোসাইন মোহাম্মদ ইকবাল ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে এলাকার সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

মামলার বিবরন থেকে জানা‌ যায়, দেশে যখন করোনার মারাত্মক আতঙ্ক ঠিক তখন ইটালি প্রবাসী শেখ হোসাইন মোহাম্মদ ইকবাল তার নিজ বাড়ি ঘাগড়াতে এসেছিলেন এবং বিগত ২০২০ সালের ১৩ মার্চ তিনি মিঠামইন থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে একটি ভিডিও বার্তা ফেসবুকে ভাইরাল করে।ওই সময় কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বিষয়টি অধিকতর তদন্তের দাবি করেন যমুনা টিভিকে অনুসন্ধানের জন্য অনুরোধ করেন। অতঃপর এনিয়ে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তোলপাড়। সেই সময় মিঠামইন থানার এসআই নজরুল ইসলাম ফেসবুকের ভিডিও বার্তাটি মিথ্যা বলে দাবী করে বিগত ২০২০ সালের ২২মার্চ মিঠামইন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শেখ হোসাইন মোহাম্মদ ইকবাল এবং শেখ বাবু আহম্মেদকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ শেখ ইকবালকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে এবং ইকবালকে ৮দিনের রিমান্ডে আনে।

উল্লেখ্য রিমান্ড শেষে‌ শেখ ইকবাল আদালতে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দিতে সাংবাদিক গোলাপের উপর দোষ চাপিয়ে দেন। ইকবাল তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করে বলেন, ‘সাংবাদিক গোলাপের কথায় একটা সাক্ষাৎ কার দেই। তখন গোলাপ বলে সাক্ষাৎকার হয়নি। পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনতে হবে। তখন গোলাপের প্ররোচনায় আমি এক পর্যায়ে দারোগার বিরুদ্ধে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করি একটি ভিডিওতে।”

এদিকে এলাকার লোকজন জানান, ইকবালের ছোট ভাই শেখ ইফরানও তখন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়। অথচ অজানা কারণে পুলিশ ইফরানকে গ্রেফতার করেননি। অথচ
শেখ ইকবালের জবানবন্দির পর পরই ২০২০সালের ১০মে সাংবাদিক গোলাপকে গ্রেফতার করে। এঘটনায় তিনি ৫মাস ৫দিন কারাগারে ছিলেন।

উল্লেখিত সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপ ‘বিডি চ‍্যানেল ফোর’-এর মিঠামইন প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি এবিষয়ে প্রতিবেদককে জানান, “আমি শুধু সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। এরবেশি কিছু না। শেখ ইকবালের বক্তব্যের একটি ভিডিও-বার্তা ‘বিডি চ‍্যানেল ফোর’-এ সম্প্রচার করা হয়েছে। এ নিয়ে কোন মামলা হয়নি। শুধু ফেসবুকের ভিডিও বার্তাটিকে কেন্দ্র করে মামলা করা হয়।” এবিষয়ে সাংবাদিক গোলাপ দাবি করেন যে পুলিশকে নিয়ে শেখ ইকবালের যে ভিডিও বার্তাটি ভাইরাল হয়েছে তা তার ধারণ করা নয়।

এছাড়াও সাংবাদিক গোলাপ এবিষয়ে বলেন, “আমি ইকবালের রোষানলের শিকার হয়েছি। ইকবালের ভিডিওগুলো দেখতে একই রকম। সেই জন‍্য শেখ ইকবাল নিজের দোষ আড়াল করে আমার উপর দোষ চাপিয়ে দিয়েছে কৌশলে।”

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেননি। শুধুমাত্র ইকবালের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের উপর ভিত্তিতে শেখ হোসাইন মোহাম্মদ ইকবাল, শেখ বাবু আহম্মদ এবং সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপকে আসামি বানিয়ে তড়িঘড়ি করে আদালতে চর্জশিট দাখিল করেছে। এমনকি চার্জশিটে ইকবালের একাধিক ভিডিও সম্পর্কেও কোনকিছু উল্লেখ করা হয়নি। ছিলো না মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট। এদিকে প্রবাসী জানা সত্ত্বেও কোনো এক অজানা কারণে শেখ ইকবালের পাসপোর্টটিও জব্দ করা হয় নি! সেই সুবাদে মামলার প্রধান আসামি শেখ ইকবাল সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ এ মামলাটির বিচারের জন‍্য আভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

এ মামলায় সাংবাদিক গোলাপকে চক্রান্ত করে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করে দেশের বৃহত্তম সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম তাঁকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে। তাঁর পক্ষের আইনজীবীর ভূমিকায় থাকছেন এডভোকেট কাউসার হোসাইন। এছাড়াও শেখ বাবুর পক্ষে রয়েছেন এডভোকেট বিল্লাল মোজুমদার।

উল্লেখ্য প্রতিবেদক সরেজমিনে অনুসন্ধানের জন্য এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারে আরেক রহস্যজনক তথ্য। এলাকাবাসীর মতে শেখ ইকবাল অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির লোক, এলাকায় তার সম্পর্কে অনেক বদনাম আছে এবং জেলে যাওয়া-আসা তার জন্য কোনো নতুন কিছু নয়।এর আগেও ইকবাল বহুবার জেল খেটেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category